অধ্যাপক ইউনূসকে কটূক্তির অভিযোগেও মামলা কেন?

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে কটূক্তি করার ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আরও একটি নালিশি মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সম্পর্কে ‘অশালীন






 মন্তব্যের’ অভিযোগে মোট দু’টো মামলা করা হলো। তবে সর্বশেষ মামলাটি হয়েছে গত ২৬শে অক্টোবর, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলায়। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আশীষ রায়ের আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারা ও পেনাল কোডের ৩০৭, ৪৯৯, ৫০৬ (খ) ধারায় অভিযোগটি দায়ের করা হয়। তবে শুনানি শেষে বিচারক পেনাল কোডের ওই ধারাগুলো অনুযায়ী অভিযোগটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন কলাপাড়া থানার ওসিকে। এই মামলার বাদী উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব মধুখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান মাহমুদ। বাদীর আইনজীবী হাফিজুর রহমান চুন্নু বিবিসি বাংলাকে বলেন, “দুইটি ধারাতেই মামলা করা হয়েছিলো। তবে প্রথমটিতে মামলা নেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় বিচারক দ্বিতীয়টিতে এজাহার গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন। কারণ ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য ভিন্ন আদালত। তবে এখন পুলিশ যদি তদন্ত করে সত্যতা পায়, তাহলে ওই ধারাও কার্যকর হতে পারে।” এর আগে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানি করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে তার পক্ষ হয়ে মামলা করতে দেখা যেত। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর এখনও সেই প্রবণতা থামেনি। বিগত সরকারের আমলে অধ্যাপক ইউনূসের নামে যখন অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে মামলা চলছিলো, তখন তাকে আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হতো। চলতি বছরের দোসরা মে তিনি একইভাবে হাজিরা শেষ করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। বেসরকারি সময় টেলিভিশন সেসময়ে মুহাম্মদ ইউনূসের সেই বক্তব্য সম্বলিত একটি ভিডিও তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। সেই পোস্টে মন্তব্য করেন আসামি মো. মাসুম বিল্লাহ। আদালতে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, আসামি সেই ভিডিও-তে মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে মন্তব্য করে বলেছিলেন, “আপনাকে দেখে মনে হয় আমেরিকার দালাল”। কিন্তু তার ওই মন্তব্যের কারণে “বাদীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়” বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। বাদী দাবি করেছেন যে ফেসবুকে ওই মন্তব্যের পর আসামি “এলাকায় বসে মুহাম্মদ ইউনূসকে সুদখোর, ইহুদি পশ্চিমা দালাল বলে মানহানিমূলক উক্তি প্রকাশ করে” এবং সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে “একাকি পেলে গুলি করে হত্যা” করার হুমকি দিয়েছেন। যে কারও অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের এভাবে “মানহানির মামলা” গ্রহণ করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী সারা হোসেন।

Comments

Popular posts from this blog

কিভাবে মিলনের সময় বাড়াবেন

এই ৫ রকম তেলে হবে চুলের সব সমস্যার সমাধান

বিকাশে অফিসার পদে চাকরির সুযোগ, থাকছে না বয়সসীমা